বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে শেয়ারটির দর ছিল ৯ টাকা ৩০ পয়সা, সপ্তাহ শেষে যা ১২ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এতে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) বারাকা পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা। এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৫৬ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বারাকা পাওয়ারের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫৬ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৬১ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বারাকা পাওয়ার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ১৩ পয়সায়। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯৯ পয়সায়।
২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বারাকা পাওয়ার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ১৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪৩ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩ টাকা ১৭ পয়সয় (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০২০-২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে বারাকা পাওয়ার। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল বারাকা পাওয়ার। এর মধ্যে ৮ শতাংশ নগদ ও বাকি ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। ২০১৭ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
বারাকা পাওয়ারের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ টু’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ এবং অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড।
২০১১ সালে বারাকাতুল্লাহ ইলেকট্রো ডাইনামিকস লিমিটেড (বিইডিএল) নামে পুঁজিবাজারে আসে বর্তমান বারাকা পাওয়ার। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২০০ কোটি ৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬১। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।